আইয়ামে বীজের রোজা । আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখ

প্রিয় পাঠক আমরা অনেকেই আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে চাই কিন্তু আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখে সে সম্পর্কে না জানার কারণে আমরা সঠিকভাবে আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে পারি না । তাই অনেকেই আমাদের কাছে আইয়ামে বীজের রোজা এবং আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখে সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
আইয়ামে বীজের রোজা । আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখ
তাই আজকে আমরা আইয়ামে বীজের রোজা , আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখ , আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত , আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ত , আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো।

আইয়ামে বীজের রোজা । আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখ

আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত

হাদিস শরীফে আছে - ওয়া ‘আন আলীয়্যিবনি আবূ তালিবন (রা.) কালা কালা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আস্সাওমু ইয়াওমা ছালাছা ‘আশারা ইয়া‘দিলু সাওমা ‘আশারা আলাফি সানাতিন, ওয়াস্সাওমু ইয়াওমা আরবা আ আশারা ইয়া দিলু সাওমা 'ইশরীনা আলাফি সানাতিন ওয়া মান সামা ইয়াওমা খামসা 'আশারা ইয়া দিলু সাওমা মিআতি আলফি সানাতিন ।
অর্থ : হযরত আলী ইবনে আবূ তালেব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন – যে ব্যক্তি তেরো তারিখের রোজা রাখবে তার জন্য দশ হাজার বছর রোজার সওয়াব বরাবর সওয়াব হবে এবং যে চৌদ্দ তারিখে রোজা রাখবে তার জন্য বিশ হাজার বছর রোজার সওয়াব বরাবর সওয়াব হবে এবং যে ব্যক্তি পনেরো তারিখে রোজা রাখবে তার জন্য একশত হাজার বছর রোজার সওয়াব বরাবর সওয়াব হবে।
হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোজা রাখে; ফজরের দুই রাকাত নামাজ পড়ে এবং মুকীম অবস্থায় (নিজ দেশে) বা মুসাফির অবস্থায় বিতরের নামাজ ত্যাগ না করে, তার জন্য একজন শহীদের সওয়াব লেখা হয়।

হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন, আমি ঐ তিনটি অসিয়তকে জীবনে কোনো দিন ত্যাগ করিনি। সাহাবীগণ বললেন, হে রাসূলুল্লাহর বন্ধু ! ঐ তিনটি বস্তু কি বর্ণনা করুন। 
তারপর আবূ হুরায়রা (রা.) বললেন, তা প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোজা, শোয়ার পূর্বে বিতিরের নামাজইশরাকের নামাজ । কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : হে আবূ হুরায়রা! তুমি ঐ তিনটি বস্তুকে পরিত্যাগ করো না, কারণ ঐগুলো অতিশয় বড় নিয়ামত ।

আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখ

প্রতি চন্দ্রমাস অর্থাৎ আরবি মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে হয়। হযরত আবদুল মালেক (র.) তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তার পিতা বলেছেন, আমি আলী ইবনে আবূ তালেব (রা.)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলতেন, আমি একদিন দ্বিপ্রহরে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হুজরার মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম, তাঁর নিকট যে ব্যক্তি বসেছিলেন তাঁকে সাথে সালাম করলাম। 
তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার দিকে চেহারা ফিরালেন ও বললেন, হে আলী! তুমি একে চেন না? ইনি জিব্রাঈল (আ.)। ইনি তোমাকে সালাম করছেন। তারপর হযরত আলী (রা.) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)! আপনার ওপর ও তাঁর ওপর সালাম অবতীর্ণ হোক। 

তারপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আলী! জিব্রাঈল (আ.) আমাকে বলছেন যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিনটি রোজা রেখো তাহলে কেবলমাত্র তোমার জন্য প্রথম দিনের রোজার বিনিময়ে (বাবত) দশ হাজার রোজার সওয়াব লেখা যাবে, দ্বিতীয় দিনের বাবত ত্রিশ হাজার রোজার সওয়াব এবং তৃতীয় দিনের রোজার বাবত একশত হাজার রোজার সওয়াব লেখা যাবে। 
হযরত আলী (রা.) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই সওয়াব কি শুধু আমার জন্য না প্রত্যেক মানুষের জন্য? রাসূলে করীম (সা.) বললেন, হে আলী! এ সওয়াব তোমাকে দেবেন, এমনকি যে কোনো মুসলমান তোমার পরে আইয়ামে বীজের রোজা রাখবে সেও এরূপ সওয়াবের অধিকারী হবে। 

হযরত আলী (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, হুযূর! প্রত্যেক মাসে কোন্ কোন্ তারিখে ঐ রোজা তিনটি রাখতে হবে? হযরত রাসূলূল্লাহ (সা.) বললেন, প্রত্যেক চাঁদের ১৩, ১৪, ও ১৫ তারিখে এই রোজা রাখতে হবে। এ রোজার নাম আইয়ামে বীজের রোজা ।
হযরত আব্দুল মালেক (রা.)-এর পিতা বলেছেন, আমি হযরত আলী (রা.)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম যে, ঐ রোজা তিনটির নাম আইয়ামে বীজ হয়েছে কেন? হযরত আলী (রা.) জবাব দিলেন যে, যখন আল্লাহ তা' আলা হযরত আদম (আ.)-কে বেহেশত হতে বের করে জমিনে ফেলে দিয়েছিলেন, তখন সূর্য তাঁকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল, তাতে তাঁর সর্ব শরীর সিয়া (কালা) হয়েছিল।

তারপর তাঁর নিকট হযরত জিব্রাঈল (আ.) এসে বললেন, হে আদম! আপনি কি ভালবাসেন যে, আপনার শরীর সাদা হয়? আদম (আ.) উত্তর করলেন, হাঁ, পুনঃ জিব্রাঈল (আ.) বললেন, হে আদম! আপনি প্রত্যেক চাঁদে (মাসে) তিন তিনটি রোজা রাখবেন। 
অর্থাৎ ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ। হযরত আদম (আ.) প্রথম দিনের অর্থাৎ ১৩ তারিখের রোজা রাখলেন, তাতে তাঁর এক-তৃতীয়াংশ শরীর সাদা হয়ে গেল। তারপর তিনি ১৪ তারিখের রোজা রাখলেন, তাতে তাঁর শরীরের দুই-তৃতীয়াংশ সাদা হয়েছিল। পুনরায় তিনি ১৫ তারিখের রোজা রাখলেন, তাতে তাঁর সমস্ত শরীর সাদা হয়ে গেল। সেই নিমিত্ত এ তিন দিনের নাম আইয়ামে বীজ রাখা হয়েছে।

হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে না পারে সে যেন অবশ্যই প্রত্যেক মাসে একটি রোজা রাখে। হযরত (সা.) আরো বলেছেন-মান সামা ইয়াওমাল আরবিআই ওয়াল খামীসি ওয়াল জুমু'আতি বানাল্লাহু তা'আলা লাহূ কাসরান ফিল জান্নাতি মিলু'লুয়িন ওয়া যামার্াদিওঁ ওয়া কাতাবাল্লাহু তা'আলা লাহূ বারাআতাম মিনান্নার।
অর্থ : “যে ব্যক্তি শুধু বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোজা রাখে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা বেহেশতে যমরূদ ও ইয়াকুত দ্বারা বালাখানা তৈরির করে দেবেন এবং তাকে দোজখ হতে খালাস করে দেবেন।” অন্য একটি হাদীসে আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত আছে, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : মান সামা ছালাছাতা আইয়্যামিম মিন কুল্লি শাহরিন আল খামীসা ওয়াল জুমু'আতা ওয়াস সাবতা কাতাবাল্লাহু লাহু ‘ইবাদাতা তিস'ই মিআতিন।
অর্থ : যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার এই তিন রোজা রাখে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য নয়শত বছরের ইবাদতের সমান সওয়াব দেবেন ।

আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ত

আইয়ামে বীজের রোজা রাখার আলাদা কোন নিয়ত নেই। আমি আল্লাহকে খুশি করার জন্য আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ত করলাম এটকুই যথেষ্ট। কোরঅন কিংবা হাদিসে আইয়ামে বীজের রোজার আলাদা কোন নিয়ত এর বর্ণনা পাওয়া যায় না।

আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ম

অন্যান্য রোজা রাখার যে নিয়ম আইয়ামে বীজের রোজা রাখার ও একই নিয়ম। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং যৌন সর্ম্পক থেকে বিরত থাকা এবং সকল প্রকার হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে হয়।

আইয়ামে বীজের রোজা । আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখ : লেখক এর মতামত

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা আপনাদের সামনে আইয়ামে বীজের রোজা , আইয়ামে বীজের রোজা কত তারিখ , আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত , আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ত , আইয়ামে বীজের রোজা রাখার নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম।

এ সংক্রান্ত আপনাদের যে কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। খুব দ্রুত আমরা আপনাদের প্রশ্ন এবং মতামতের উত্তর প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ। এরকম প্রয়োজনীয় আরও তথ্য পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।।ধন্যবাদ।।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

ইসলামিক ইনফো বাংলা