খোলাফায়ে রাশেদীন ২য় পর্ব উসমান (রাঃ) -আলী (রাঃ)

   

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ মৃত্যুবরণ করার পর মুসলিম বিশ্বের খেলাফত বা নেতৃত্ব যে চারজন বিশিষ্ট সাহাবী গ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে বলা হয় খোলাফায়ে রাশেদীন বা চার খলিফা। আজকে আমরা খোলাফায়ে রাশেদীন  বা চার খলিফা ২য় পর্বে খলিফা উসমান (রাঃ) এবং আলী (রাঃ) সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

খোলাফায়ে রাশেদীন বা চার খলিফা উসমান (রাঃ) আলী (রাঃ)
প্রিয় নবী সাঃ ইন্তেকালের পর মুসলিম বিশ্ব যখন নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে তখন সকল সাহাবীদের পরামর্শে হযরত আবু বকর (রাঃ) ইসলামিক খেলাফত গঠন করেন।৬৩২ খ্রি. শুরু হওয়া খোলাফায়ে রাশেদীনদের শাসনকাল ৬৬১ সাল পর্যন্ত।

খোলাফায়ে রাশেদীন বা চার খলিফা সম্পর্কে জেনে নিনঃ ভূমিকা

মুসলিম বিশ্ব কখনোই নেতৃত্ব শূন্য ছিল না। মহানবী সাঃ তার যোগ্য সাহাবাদের রাজনীতি, অর্থনীতি সমাজনীতি, কূটনীতি, যুদ্ধ কৌশল সকল বিষয়ে পারদর্শী করে গড়ে তুলেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে তার মৃত্যুর পর যখন মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বশূন্য হওয়ার পথে ঠিক তখনই মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তার সবচাইতে যোগ্য সাহাবীরা। ৬৩২ সালে শুরু হওয়া খেলাফত  ১৯২৩ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।

খোলাফায়ে রাশেদীন বা চার খলিফা সম্পর্কে জেনে নিনঃ উসমান(রাঃ)

খোলাফায়ে রাশেদীন এর তৃতীয় খলিফা ছিলেন হযরত উসমান (রাঃ)।প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে তিনি একজন। হযরত আবু বকর এর চেষ্টায় এবং ইচ্ছায় উসমান (রাঃ) ইসলাম কবুল করেন। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের জামাতা ছিলেন। ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ পর্যন্ত মোট ১২ বছর শাসন করেন তৃতীয় খলিফা উসমান (রাঃ) ।

উসমান(রাঃ): জন্ম এবং ইসলাম পূর্ব জীবন

তিনি কুরাইশ বংশের বনী উমাইয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন । সাহাবীদের মত তার শৈশব সম্পর্কেও খুব বেশি জানা যায় না। তবে যতটুকু জানা যায় তিনি পড়ালেখা জানতেন তিনি আরবের বংশগতিবিদ্যার একজন সুপণ্ডিত ছিলেন। কৈশরেই তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন এবং প্রচুর অর্থ সম্পদ উপার্জন করেন। তাকে ঐ সময়ে আরবের লোকজন গণি বলে ডাকতো। 

গনি অর্থ ধনী। উসমান (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে এবং পরে উভয় সময় ব্যবসা-বাণিজ্য করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তার সকল সম্পদ ইসলামের রাস্তায় ব্যয় করেন।

উসমান(রাঃ): ইসলাম পরবর্তী জীবন

হযরত উসমান (রাঃ)  প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম। কোন কোন বর্ণ অনুসারে তিনি ইসলাম গ্রহণকারী চতুর্থ ব্যক্তি ছিলেন। মক্কায় কাফেররা অত্যাচার নির্যাতন শুরু করলে তিনি তার পরিবারসহ আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। পরবর্তীতে তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। উসমান (রাঃ) ব্যক্তিগত জীবনে খুবই লাজুক এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। 


আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী হওয়া সত্ত্বেও তিনি খুবই সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। তিনি বদর যুদ্ধ ব্যতীত উহুদ, খন্দক, খাইবার, হুদায়বিয়ার, তাবুক যুদ্ধসহ প্রায় সকল যুদ্ধে মুহম্মদ (সাঃ) এর সাথে অংশগ্রহণ করেন। তাবুক যুদ্ধে তিনি তার সম্পদের এক তৃতীয়াংশ দান করেন। মুহম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর হযরত আবু বকর ও হযরত ওমরের শাসনামলে তিনি তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং সমর্থন প্রদান করেন।

উসমান(রাঃ): উমর (রাঃ) এর মৃত্যু এবং খলিফা উসমান (রাঃ)

উমর (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে সাহাবীদের পরামর্শ খিলাফতের দায়িত্ব পান। খিলাফতের দায়িত্ব নিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমন করে সম্পূর্ণ সাম্রাজ্যের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। তার ১২ বছরের শাসনকালে প্রথম ১০ বছর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও শেষ ২ বছরে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

উসমান (রাঃ) খুব নরম মনের মানুষ হওয়ায় বিদ্রোহীরা সেই সুযোগটি কাজে লাগায় এবং তার বিরুদ্ধে একের পর এক বিদ্রোহ করতে থাকে তিনি রক্তপাত পছন্দ করেননি যার কারণে তিনি এ সকল বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করেন নি।

উসমান(রাঃ): জিন্নুরাইন ও জামিউল কুরআন উপাধি প্রাপ্তি

মুহম্মদ (সাঃ) এর দুই কন্যা হযরত রুকাইয়া এবং হযরত উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেন যার কারণে তাকে বলা হত জিন্নুরাইন অর্থ দুইটি নূরের অধিকারী। মুহম্মদ (সাঃ) তাকে খুবই ভালোবাসতেন এবং বলতেন, ”আমার যদি আরও কন্যা থাকতো তাহলে আমি তাদেরওে উসমান (রাঃ) এর সাথে বিয়ে দিতাম”। উসমান (রাঃ) এর শাসনকালে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ছিল পবিত্র কোরআন সংকলন তার শাসনামলে ইসলাম তৎকালীন বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

এর ফলে পবিত্র কুরআনের বিশুদ্ধ আরবি অনেকেই পরিবর্তন করে আঞ্চলিক ভাষায় লেখার চেষ্টা করে। এতে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।উসমান (রাঃ) এই সময় হযরত ওমরের কন্যা হযরত হাফসা (রাঃ) এর নিকট সংরক্ষিত আবু বকর (রাঃ) এর আমলের সংকলিত পবিত্র কুরআনের বিশুদ্ধ কমিটি নিয়ে প্রধান ওহী লেখক হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) কে নির্দেশ দেন তার সাতটি অনলিপি তৈরি করার জন্য।


সাতটি অনলিপি তৈরি করে তা দেশের সাতটি প্রদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রাদেশিক গভর্নরদের নির্দেশ দেওয়া হয় আঞ্চলিক ভাষায় রচিত সকল কোরআন পুড়িয়ে ফেলে সরবরাহকৃত কোরআনের কপি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে। ফলশ্রুতিতে মুসলিম বিশ্ব বড় রকমের বিপর্যয়ের হাত থেকে মুক্তি পায়। উসমান (রাঃ)এর এই অবদানের জন্য তাকে জামিউল কুরআন বা কুরআন সংকলনকারী বলা হয়।

উসমান(রাঃ): মৃত্যু

উসমান (রাঃ) শাসনের শেষের দিকে বিদ্রোহীরা তার পদত্যাগ দাবি করলে তিনি তা করতে অস্বীকার জানান। বিদ্রোহীরা তার বাড়ি ঘেরাও করে এ সময় বিশিষ্ট সাহাবীরা তাদের সন্তানদের মাধ্যমে খলিফা উসমান (রাঃ) কে রক্ষার জন্য যে বিশেষ বাহিনী গঠন করে নিয়োগ দেন কিন্তু তারপরেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মিশর ,বসরা এবং কুফার বিদ্রোহীরা একত্রিত হয়ে পবিত্র কোরআন পাঠরত অবস্থায় ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে তাকে হত্যা করে। তার এই হত্যাকাণ্ড মুসলিম বিশ্বের সুদূর প্রসারী প্রভাব ফেলে। মুসলিম বিশ্ব গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয় তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকি গোরস্থানে দাফন করা হয়।

খোলাফায়ে রাশেদীন বা চার খলিফা সম্পর্কে জেনে নিনঃ আলী(রাঃ)

ইসলামের চতুর্থ খলিফা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন এর শেষ খলিফা  ছিলেন হযরত আলী (রাঃ)। তিনি একাধারে মুহাম্মদ সাঃ এর চাচাতো ভাই এবং জামাতা ছিলেন।মুহাম্মদ সাঃ এর ছোট কন্যা হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর সাথে হযরত আলী(রাঃ)এর বিয়ে হয়। তিনি ইমাম হাসান (রাঃ) এবং ইমাম হুসাইন(রাঃ) এর পিতা ছিলেন। তিনি ৬৫৬ থেকে ৬৬১ পর্যন্ত মোট পাঁচ বছর মুসলিম বিশ্ব শাসন করেন।

আলী (রাঃ): জন্ম এবং ইসলাম পূর্ব জীবন

আলী (রাঃ) মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। অন্যান্য সাহাবীদের মত তার বাল্যকাল সম্পর্কেও খুব বেশি জানা যায় না। যতটুকু জানা যায় তিনি মহানবী সাঃ এর তত্ত্বাবধানে বড় হন যার কারণে মুহম্মদ (সাঃ) কে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং সহজেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।

তার পিতা আবু তালিব জীবিত থাকা অবস্থায় মুহম্মদ (সাঃ)  কে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং কাফেরদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। আলীও ঠিক সেরকম ছিলেন পিতার মতো তিনি ও তার চাচাতো ভাই মুহম্মদ (সাঃ)  এর সাথে সবসময় ছায়ার মত থাকতেন।

আলী (রাঃ): ইসলাম পরবর্তী জীবন

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নিজেকে মুহম্মদ (সাঃ) এর ঢাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। মুহম্মদ (সাঃ)  এর সাথে শিয়াবে আবু তালিব তিনিও ৩ বছর বন্দি জীবন পার করেন। মুহম্মদ (সাঃ) তাকে খুবই বিশ্বাস করতেন এর প্রমাণ পাওয়া যায় মুহম্মদ (সাঃ) যখন মদিনায় হিজরত করেন তখন তার কাছে রক্ষিত মক্কার লোকদের ধন সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তার স্থলে আলী(রাঃ) কে রেখে যান।

আলী(রাঃ) সবাইকে তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার পর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। আলী (রাঃ) মদিনায় মুহম্মদ (সাঃ)  এর সাথে বদর, ওহুদ, খন্দক, খাইবার সহ সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। খাইবার যুদ্ধে তার বীরত্বে জন্য তাকে আসাদুল্লাহ বা আল্লাহর সিংহ উপাধি দেওয়া হয়।


আলী (রাঃ) যুদ্ধের সময় মুহম্মদ (সাঃ) প্রদত্ত জুলফিকার নামের একটি তরবারি ব্যবহার করতেন যেটি ইতিহাসে খুবই প্রসিদ্ধ। আলী (রাঃ) মুহম্মদ (সাঃ) এর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ওহী লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পাশাপাশি তিনি হুদাইবিয়ার সন্ধির লেখক ছিলেন। 

আলী(রাঃ) ব্যক্তিগতভাবে খুবই জ্ঞানী এবং পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। আরবি সাহিত্য, আরবি ব্যাকরণ, তাফসীর, আরবের বংশগতিবিদ্যা ইত্যাদিতে তিনি ব্যাপক পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন তার রচিত কাব্যগ্রন্থ দেওয়ানে আলী আরবি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

আলী (রাঃ): উসমান (রাঃ) এর মৃত্যু এবং খলিফা আলী(রাঃ)

৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে উসমান (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে আলী রাঃ খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনকালের পাঁচ বছর মুসলিম সাম্রাজ্য যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যায়। একটি পক্ষ হযরত ওসমান রাঃ এর মৃত্যুর জন্য সরাসরি আলী রাঃ এর দায়ী করলে আলী রাঃ সরাসরি অস্বীকার করেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

তারপরেও ওসমান রাঃ এর বিচারের দাবিতে হযরত আয়েশা (রাঃ), হযরত তালহা(রাঃ) এবং হযরত জুবায়ের(রাঃ) এর নেতৃত্বে হযরত আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় এই যুদ্ধটি জঙ্গে জামাল বা উষ্টের যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুদ্ধে আলী রাঃ জয় লাভ করেন এবং অনেক সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন।

তার কিছুদিন পরে হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর নেতৃত্বে পুনরায় উসমান (রাঃ)  হত্যার বিচারের দাবিতে সিরিয়ায় বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। সিফফিন নামক প্রান্তরে উভয় বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে নিলে মুয়াবিয়া (রাঃ) এর কূটনৈতিক কৌশলে আলী (রাঃ) এর পরাজয় ঘটে। এ সময় হযরত আলী রাঃ এর পক্ষের বারো হাজার সৈন্য তার দল ত্যাগ করেন। যারা ইতিহাসের খারেজী নামে পরিচিত। খারেজীদের তিনি নাহরাওয়ানের যুদ্ধে পরাজিত করেন।

আলী (রাঃ): মৃত্যু

ইবনে মুলজাম নামক একজন খারেজীর হাতে ৬৬১ খ্রি. শাহাদত বরণ করেন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব।নজাফ শহরে তাকে সমাহিত করা হয়।তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে খোলাফায়ে রাশেদীন বা চার খলিফার শাসন শেষ হয়।

লেখকের শেষ কথা

আজকে আমরা খোলাফায়ে রাশেদীন বা চার খলিফা ২য় পর্বে উসমান (রাঃ) এবং আলী (রাঃ) সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম।  ওসমান (রাঃ), আলী (রাঃ) এর জন্ম, শৈশব, ইসলাম পূর্ব জীবন, ইসলাম পরবর্তী জীবন, খিলাফতকালীন ইতিহাস এবং মৃত্যু সম্পর্কে আজকে আমরা আলোচনা করলাম। 

খোলাফায়ে রাশেদীন এর সমাপ্তির পর মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে আসেন উমাইয়া খলিফারা। তাদের সম্পর্কে পরবতীর্তে  আলোচনা করা হবে। আশা করি আজকের আলোচনাটি আপনাদের ভাল লেগেছে। এরকম আরো তথ্য বহুল এবং ইতিহাস নির্ভর তথ্য জানতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার অনুরোধ রইল।ধন্যবাদ।।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

ইসলামিক ইনফো বাংলা

আমাদের ফেসবুক পেইজ