জীমে নতুন হলে কী করবেন কী খাবেন এবং কী করবেন না

 

আমরা জানি স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য আমরা অনেকেই অনেক কিছু করে থাকি। আপনি যদি জীমে যেতে চান তাহলে জীমে নতুন হলে কী করবেন কী খাবেন এবং কী করবেন না সে সর্ম্পকে অবশ্যই আপনার ধারণা থাকতে হবে।

জীমে নতুন হলে কী করবেন কী খাবেন এবং কী করবেন না
আজকে আমরা জানবো জিমের কিছু প্রাথমিক ধারণা, অর্থাৎ আপনি জীমে নতুন হলে কী করবেন কী খাবেন এবং কী করবেন না, আপনার জন্য শরীরচর্চার উত্তম সময় কোনটি? এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ। আশা করবো শেষ পর্যন্ত পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

জীমে নতুন হলে কী করবেন কী খাবেন এবং কী করবেন না

শরীর চর্চার উত্তম সময়

সকল কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, ঠিক তেমনি শরীরচর্চারও একটি সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে, সে সময় নির্ধারিত হবে আপনার সুবিধা অনুযায়ী , আপনি ভোরে, সকালে , বিকালে কিংবা রাতেও শরীর চর্চা করতে পারেন, তবে মনে রাখতে হবে চর্চার সর্বোত্তম সময় ভোরবেলা।

কেননা এই সময় আবহাওয়া অনেকটা ঠান্ডা থাকে, রাতে ঘুমানোর ফলে শরীরের পেশিগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম পায়, যা আপনার জিম করার জন্য একটি পারফেক্ট অপশন । অনেকে রাতে শরীর চর্চা করে থাকেন। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে শরীরচর্চা করার ফলে আপনার পেশিগুলো আরো দুর্বল হয়ে যেতে পারে , যাতে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা বেশি।

জীমে নতুন হলে কী করবেন প্রাথমিক পর্যায়ে

আপনি যদি নতুন জীমে যাওয়া শুরু করেন তবে অবশ্যই নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষ রাখবেনঃ
১. প্রথম কিছুদিন শরীরের জনতা কাটানোর জন্য একটু দৌড়ানো, দড়ি খেলা, পুশআপ, এবং সিনআপ ই যথেষ্ট।
২. মনে রাখতে হবে পুশআপ, এবং সিনআপ সকল ব্যায়ামের জননী, আপনি যদি সঠিকভাবে পুশআপ, এবং সিনআপ দিতে পারেন তাহলে এ দুটো ব্যায়ামই আপনার শরীরের বেসিক স্ট্রাকচার গঠন করে দিবে।
৩. জীমে গিয়ে প্রথমেই ওয়েট ব্যবহার করা উচিত নয়, প্রাথমিক ভাবে সর্বনিম্ন ছয় মাস “ফ্রি হ্যান্ড” ব্যায়াম করা উচিত , তাহলে আপনার পেশি এবং পেশির শক্তি দুটোই বৃদ্ধি পাবে।
৪. নিম্নের রুটিনটি অনুসরণ করতে পারেনঃ
ক. দৌড় - ১৫ মিনিট।
খ. দড়ি খেলা-১০ মিনিট।
গ.পুশ আপ- ১৫ টি করে- ৩ সেট।
ঘ. ফ্লাইং-১২ টি করে- ৩ সেট।
ঙ. ল্যাট-১০ টি করে- ৩ সেট।
চ. সিনআপ- ১০ টি করে- ৩ সেট।

এই রুটিনটি ১ বছর অনুসরণ করলে আপনার একটি বেসিক স্ট্যাকচার তৈরী হবে যা আপনাকে আজীবন ব্যাকআপ দিবে।

জীমে নতুন হলে খাদ্য তালিকা

অনেকেই মনে করেন যে, জীম করলে মনে হয় প্রচুর খেতে হয় ??? এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। জীম করলে প্রচুর খেতে হয় না তবে নিয়ম মাফিক অল্প কিছু খাবার গ্রহণই যথেষ্ট।
যেমনঃ
১. সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি
২. রাতে কাঁচা বুট, বাদাম, কিসমিস একসাথে ভিজিয়ে রেখে, পানি ফেলে দিয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া।
৩. প্রতিদিন একটি সিদ্ধ ডিম
৪. নিয়মিত দুধ খাওয়া
৬. পাকা কলা
৮.শাক-সবজি
৯.বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ
১০. বিভিন্ন প্রাণী যে আমিষ। যেমনঃ গরু ,ছাগল, হাঁস, মুরগির গোশত।
১১. প্রচুর ফলমূল খাওয়া বিশেষ করে মৌসুমি ফলমূল।
অন্যান্য খাবার যা আমরা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করি। তবে চেষ্টা করতে হবে, স্বাস্থ্য-সম্মত এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার খাওয়ার জন্য।

নিম্নলিখিত খাবার গুলো গ্রহণ না করাই ভালোঃ

১. ফাস্ট ফুড
২. বিভিন্ন রকম এনার্জি ড্রিঙ্ক।
৩. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার।
৪. অ্যালকোহল।
৫. বিড়ি- সিগারেট।
৬. রাস্তার পাশের খোলা খাবার।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ

১. জীমে কখনো আটোসাটো পোশাক পড়ে যাওয়া উচিত নয়। চেষ্টা করতে হবে ঢিলেঢালা পোশাক পরে যাওয়ার।
২. দৌড়, দড়ি খেলায় পায়ে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে তাই স্পোসর্ট সু বা কেডস পরা।
৩. প্রাথমিকভাবে প্রথম ছয় মাস কোন ধরনের ওয়েট ব্যবহার না করা।
৪. একেবারে খালি পেটে বা একেবারে ভরা পেটে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
৫. ব্যায়াম শেষ করে সাথে সাথে গোসল করা বা ভারি খাবার খাওয়া উচিত নয়, আধ ঘন্টা পরে গোসল করা বা ভারি খাবার খাওয়া যায়।
৬. জীম শেষে ক্লান্তি দূর করার জন্য এক কাপ গরম কফি আপনাকে অনেক সহায়তা করবে।
৭. ব্যায়ামের ক্ষেত্রে মাঠ বা জিমনেসিয়াম এর পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর, এমন স্থানে ব্যায়াম করতে হবে যেটি খোলামেলা এবং সহজেই আলো -বাতাস প্রবেশ করতে পারে।
৮. অনেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের জন্য সাজেস্ট করবে, প্রোটিন বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে, নইলে পরবর্তীতে এটি বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
৯. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ নিম্নে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
১০. পরিশ্রম করতে হবে। ১/২ মাসে হয়তো বডিবিল্ডার হওয়া যাবে কিন্ত সুস্বস্থ্য থাকার জন্য নিয়মিত বিশেষ করে সপ্তাহে ৪-৬ দিন অবশ্যই ১-১.৩০ ঘন্টা ব্যায়াম করতে হবে।

জীমে নতুন হলে কী করবেন কী খাবেন এবং কী করবেন না : লেখকের মতামত

আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে অবশ্যই আপনাকে শরীর চর্চা করতে হবে। শরীর চর্চার প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ব্যক্তির কি করনীয়, কি বর্জনীয়, কি খাদ্য গ্রহণ করতে হবে ইত্যাদি সকল বিষয়ে আজকের পোস্টে খুঁটিনাটি আলোচনা করা হয়েছে। শরীর চর্চা সম্পর্কে এরকম আরো অনেক পোস্ট পড়তে আমাদের সঙ্গে থাকুন ধন্যবাদ।পরিশেষে মনে রাখতে হবে- “স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল”
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

ইসলামিক ইনফো বাংলা