শবে কদর নামাজের নিয়ম । শবে কদর দোয়া । শবে কদর ফজিলত

প্রিয় পাঠক শবে কদর মুসলিম বিশ্বের জন্য মহান আল্লাহর একটি রহমত। আজকে আমরা আপনাদের সামনে শবে কদর নামাজের নিয়ম ও শবে কদর দোয়া সহ শবে কদর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং আমল নিয়ে হাজির হয়েছি।
শবে কদর নামাজের নিয়ম । শবে কদর দোয়া
আমাদের আজকের পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনি শবে কদর দোয়া , শবে কদর নামাজের নিয়ত ,শবে কদর নামাজের নিয়ম , শবে কদর নামাজ কত রাকাত ,শবে কদর ফজিলত , শবে কদর ২০২৪ , শবে কদর আমল ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

শবে কদর নামাজের নিয়ম । শবে কদর দোয়া । শবে কদর ফজিলত

প্রতিবছর রহমত বরকত এবং মাগফেরাত নিয়ে মুসলিম বিশ্বে হাজির হয় পবিত্র মাহে রমজান মাস। পবিত্র মাহে রমজানের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন পবিত্র শবে কদর। যাকে পবিত্র কুরআন শরীফে লাইলাতুল কদর বলে অভিহিত করা হয়েছে।

শবে কদর ২০২৪

শবে কদর নামাজের নিয়ম , শবে কদর দোয়া , শবে কদর ফজিলত ইত্যাদি সম্পর্কে জানার পূর্বে চলুন আমরা প্রথমেই জেনে নেই শবে কদর ২০২৪ কত তারিখে? ইসলামিক আলেমদের মতে পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন এর যে কোন বেজোড় রাত্রি অর্থাৎ ২১ রমজান, ২৩ রমজান, ২৫ রমজান, ২৭ রমজান এবং ২৯ রমজান দিবাগত রাত্রে যেকোনো একদিন পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর।
অধিকাংশ আলেমদের মতে ২৭ রমজান দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬শে রমজান রাতই হল পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের রাত। সেই হিসাব অনুযায়ী শবে কদর ২০২৪ আগামী ০৬ এপ্রিল ২০২৪ ইং তারিখ রোজ শনিবার দিবাগত রাতে পালিত হবে।।

শবে কদর দোয়া

শবে কদর দোয়া কোন নির্দিষ্ট নেই। বিভিন্ন হাদিস অনুসারে, আল্লাহ তা'আলা শবে কদরের রাতে হযরত জিব্রাঈল (আ.)-এর সাথে অনেক ফেরেশতা পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। তখন হযরত জিব্রাঈল (আ.) কা'বাগৃহে অবতরণ করে অন্যান্য সব ফেরেশতাগণকে চতুর্দিকে পাঠিয়ে দেন। 

প্রত্যেক ফেরেশতা প্রত্যেক ইবাদতকারী মু'মিন বান্দার নিকট গিয়ে সালাম ও মুসাফাহা করে এবং তাদের সাথে দোয়ায় শামিল হয়ে আমীন আমীন বলে । তখন আল্লাহ তা'আলা এত মুগ্ধ হন যে, তিনি তখন তাঁর সৃষ্টিকে নিয়ে গৌরব অনুভব করেন এবং অত্যধিক খুশি হয়ে ইবাদতকারীর সমস্ত গুনাহ মার্জনা করে দেন । ঐ সমস্ত ফেরেশতা সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থান করেন।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় শবে কদরের রাত্রে বান্দা তার মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট নিজের ইচ্ছে মত যে কোন দোয়ায় করতে পারে। বিভিন্ন হাদিসে বলা হয়েছে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শবে কদর এর রাত্রে এই দোয়াটি বেশি বেশি করতেন:

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা ফু আন্নী ।
অর্থঃ হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল সম্মানিত এবং ক্ষমাকারীকে ভালবাসেন তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

এই দোয়াটি ছাড়াও পবিত্র শবে কদর এর রাত্রে নিজের দোয়া গুলো করা যেতে পারে-
✔ অস্তাগফিরুল্লাহ ।
অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন।

✔ সুবহানাল্লাহ। 
অর্থ : আল্লাহ মহান।

✔ আলহামদুলিল্লাহ। 
অর্থ : সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহতালার জন্য।

✔ আল্লাহু আকবার। 
অর্থ : আল্লাহ সবচাইতে বড়।

✔ আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার। 
অর্থ: হে আল্লাহ আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।

✔ আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানী ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাততু আউযুবিকা মিন শার্‌রি মা সানাতু আবূউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবূউ বিযামবী ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লাইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রতিপালক আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নাই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার হেদায়াতের পথে চলছি এবং সাধ্যমত আপনার সাইবাদাত করছি। 

আমার কৃত-কর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমাকে যত নেয়ামত দিয়েছেন, সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করছি। যত অপরাধ করেছি সেগুলোও স্বীকার করে নিচ্ছি। হে আল্লাহ আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নেই। (সাইয়িদুল ইসতিগফার)
✔ রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।
অর্থ : ‘হে আমার আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার উপর রহম করুন আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী। (সুরা মুমিনুন)

✔ রাব্বি ইন্নী জালামতু নাফসি ফাগফিরলি।
অর্থ : হে আমার আল্লাহ নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (সূরা কাসাস )

✔ রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনূবানা ওয়া ক্বিনা আজাবান-নার।
অর্থ : হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আপনি আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা আলে ইমরান)

✔ রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনূবানা ওয়া কাফফির আন্না সায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআল আবরার।
অর্থ : হে আমাদের রব,আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন। আমাদের ভুলগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করুন। (সূরা আলে ইমরান)

শবে কদর নামাজের নিয়ম

শবে কদর নামাজের নিয়ম অন্যান্য নফল নামাজের মত। এই নামাজও ০২ রাকাত করে করে পড়তে হয়। শবে কদর এর নামাজের আলাদা কোন নিয়ম নেই। প্রতি ০৪ ক রাকাত নামাজ পরপর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া এবং তসবি তাহলীল, জিকির আজগার , কোরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি করা যেতে পারে।
শবে কদর এর রাত যেহেতু অনেক দীর্ঘ হয় তাই আপনি চাইলে এই রাতে সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায় করতে পারেন।

সালাতুত তাসবিহ নামাজের ফজিলত বলে শেষ করা যাবে না। আবু দাউদ শরীফের হাদিস নং ১২৯৭, ইবনে মাজাহ শরিফের হাদিস ১৩৮৭ তে একটি হাদিসের মাধ্যমেই সালাতুত তাসবিহ নামাজের ফজিলত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। হাদিসটি হল:
হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেন- নবী করিম (সা.) একদিন স্বীয় চাচা হজরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে বললেন, হে আব্বাস! হে আমার সম্মানিত চাচা! আমি আপনার খেদমতে একটি মূল্যবান হাদিয়া কি পেশ করব? এবং আপনার দশটি কাজ ও দশটি খেদমত করে দিব? অর্থাৎ আপনাকে এমন একটি কাজ বলে দিব যা দ্বারা দশটি উপকার হবে।

এটি এমন একটি আমল যখন আপনি তা করবেন তখন আল্লাহ তায়ালা আপনার যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। অতীত ও ভবিষ্যতের নতুন-পুরনো, ইচ্ছাকৃত-অনিচ্ছাকৃত, জানা-অজানা, ছোট-বড় যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আমলটি হলো সালাতুত তাসবিহ।

হে চাচা! যদি সম্ভব হয় এই নামাজ প্রতিদিন একবার পড়বেন। তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে প্রতি শুক্রবার পড়বেন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে প্রতি মাসে একবার, আর যদি তাও সম্ভব না হয় তবে প্রতিবছর একবার পড়বেন। আর এটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে জীবনে একবার হলেও সালাতুত তাসবিহ আদায় করবেন।

সালাতুত তাসবিহ হ নামাজের নিয়ত নিয়ম এবং বিস্তারিত জানতে আমাদের এই পোস্টটি পড়ুন: সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

শবে কদর নামাজের নিয়ত

নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকআতাই সালাতি লাইলাতিল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কাবাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আমি কেবলামুখী হয়ে পবিত্র লাইলাতুল কদর এর দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করছি আল্লাহু আকবার।
শবে কদর নামাজের নিয়ত আপনি আরবি কিংবা বাংলা যে কোন ভাষাতে করতে পারবেন। আপনি যদি নিয়ত করতে ভুলে যান তাহলে তাতেও কোন সমস্যা নেই। আপনি যখনই শবে কদরের নামাজ পড়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তখনই আপনার নিয়ত হয়ে গিয়েছে।

শবে কদর নামাজ কত রাকাত

শবে কদর এর নামাজের কোন নির্দিষ্ট রাকাত নেই। নফল ইবাদত হিসেবে আপনি আপনার সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব ততটুকুই আদায় করবেন। মনে রাখবেন , নফল ইবাদতের কোন ধরা বাধা নিয়ম থাকে না তাই এই নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী, আপনার শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী মহান আল্লার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যতটুকু পারবেন অর্থাৎ যত রাকাত পারবেন তত রাকাত নামাজই আদায় করবেন। 
কারো মতে, শবে কদর এর নামাজ ৮ রাকাত বা ১২ রাকাত কিন্তু সহি কোন হাদিসে এই সংক্রান্ত কোনো বিধান পাওয়া যায় না। তাই সহজ কথায় মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আপনি আপনার সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু পারেন ঠিক ততটুকু নামাজ আদায় করবেন।

শবে কদর ফজিলত

পবিত্র শবে কদর ফজিলত বলে শেষ করা যাবে না । এর গুরুত্ব এবং মাহাত্ম্য এতই যে মহান আল্লাহতালা শবে কদর নিয়ে পবিত্র কুরআনে একটি আলাদা সূরায় নাযিল করেছেন। যা সূরাতুল কদর নামে পরিচিত।এ ক্বদরের রাত্রির মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা তাঁর কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন:

✔ ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল ক্বাদরি। ওয়া-মা আদরা-কা মা লাইলাতুল ক্বাদরি। লাইলাতুল ক্বাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহরিন। তানায্যালুল মালা-ইকাতু ওয়াররূহু ফীহা বিইযনি রাব্বিহিম মিনকুল্লি আমরিন। সালামুন হিয়া হাত্তা মাতুলা ইল ফাজর ।

অর্থ : নিশ্চয়ই আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআনকে অবতীর্ণ করেছি। আপনি জানেন কি কদরের রাত্রটি কি ? কদরের রাত্রটি হাজার মাস হতেও উত্তম । এ রাত্রে ফেরেশতাগণ ও রুহসমূহ আল্লাহর নির্দেশে দুনিয়ার সর্বত্র অবতীর্ণ হয়ে থাকে এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তি ও সালামতির সাথে বিদ্যমান থাকে 
রাসূলে করীম (সা.) এ সম্পর্কে বলেছেন—
✔ আন জাবিরিবনি আবদিল্লাহি রাদ্বিইয়াল্লাহু আনহু কালা কালা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মান কামা ফী লাইলাতিল কাদরি ঈমানাওঁ ওয়া ইহতিসাবান গুফিরা লাহূ মা তাকাদ্দামা মিন যানবিহী ।
অর্থ : হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আমাকে রাসূল (সা.) বলেছেনঃ যারা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে পুণ্য লাভের আশায় শবে কদরের ইবাদত করেছে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে।

✔ সহীহ বুখারীর ২০১৪ হাদিসে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় সওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।

✔ ২০১৬ নং হাদিসে হযরত আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে রমাযানের মধ্যম দশকে ইতিকাফ করি। তিনি বিশ তারিখের সকালে বের হয়ে আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ আমাকে লাইলাতুল ক্বদর (-এর সঠিক তারিখ) দেখানো হয়েছিল পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তার সন্ধান কর। আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি (ঐ রাতে) কাদা-পানিতে সিজদা করছি। 

অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে (মসজিদ হতে বের হয়ে না যায়)। আমরা সকলে ফিরে আসলাম (থেকে গেলাম)। আমরা আকাশে হাল্কা মেঘ খন্ডও দেখতে পাইনি। পরে মেঘ দেখা দিল ও এমন জোরে বৃষ্টি হলো যে, খেজুরের শাখায় তৈরি মসজিদের ছাদ দিয়ে পানি ঝরতে লাগল। সালাত শুরু করা হলে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কাদা-পানিতে সিজদা করতে দেখলাম। পরে তাঁর কপালে আমি কাদার চিহ্ন দেখতে পাই। (সহীহ বুখারী)

হুযূর (সা.) এ সম্পর্কে আরো বলেছেন—
✔ ইন্নাল্লাহা তা'আলা যাইয়্যানাল লাইয়ালিয়া বিলাইলাতিল ক্বাদরি। 
অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার রাত্রসমূহকে কদরের রাত্রির মাধ্যমে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছেন ।
✔ যারা কদরের রাতে সম্পূর্ণ রাত ইবাদত করবে তাদের সমস্ত সগীরা কবীরা গুনাহ আল্লাহ তা'আলা মাফ করে দেবেন ও কিয়ামতের দিন তাদেরকে কোনোক্রমেই নিরাশ করবেন না। যে ব্যক্তি কদরের রাতে জাগরিত থেকে ইবাদত করবে তার আমলনামায় এক হাজার বছরের ছওয়াব লেখে দেবেন এবং বেহেশতে তার জন্য অনেক প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।

✔ হযরত ওমর ফারূক (রা.)-এর পুত্র ওবায়েদ বর্ণনা করেন, কোনো এক কদরের রাতে বেড়াতে বের হয়ে নদীর পানি মুখে দিয়ে দেখলাম পানি মিষ্টি এবং সমস্ত বৃক্ষাদি সিজদায় পড়ে আছে, তখন তিনি বুঝলেন এটা একমাত্র শবে কদরের মাহাত্ন্য।

শবে কদর আমল

শবে কদর খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলত পূর্ণ রাত ও সত্বেও নির্দিষ্ট কোন আমল নেই। অর্থাৎ বান্দা তার স্রষ্টা মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমল করবেন। এ রাতে অযথা সময় নষ্ট না করে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, জিকির আজগার, নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল, ইস্তেগফার ইত্যাদি আমল করা যেতে পারে।

কদরের রাতের ফজিলত ও বরকত পেতে হলে সবার জন্য উচিত রমজানের শেষ দশ দিনই ইবাদতে ও জিকির-আযকারে লিপ্ত থাকা । কেননা ২৬ তারিখের দিবাগত রাত ব্যতীত অন্য ২০ হতে ৩০ রোজার মধ্যে বেজোড় রাতও কদরের রাত হতে পারে।

শবে কদর নামাজের নিয়ম । শবে কদর দোয়া । শবে কদর ফজিলত : লেখক এর মতামত

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা আপনাদের সামনে শবে কদর দোয়া , শবে কদর নামাজের নিয়ত ,শবে কদর নামাজের নিয়ম , শবে কদর নামাজ কত রাকাত ,শবে কদর ফজিলত , শবে কদর ২০২৪ , শবে কদর আমল ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম।

এ সংক্রান্ত আপনাদের যেকোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। খুব দ্রুত আমরা আপনাদের প্রশ্ন এবং মতামতের উত্তর প্রদান করা হবে ইনশাআল্লাহ। এরকম প্রয়োজনীয় আরও তথ্য পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।।ধন্যবাদ।।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

ইসলামিক ইনফো বাংলা