পেটের মেদ কমানোর উপায় ও মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায়


প্রিয় পাঠক পেটের মেদ আমাদের অনেকের জন্য একটি সমস্যার কারণ। আজকে আমরা পেটের মেদ কমানোর উপায় এবং মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব।
পেটের মেদ কমানোর উপায় - মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায়
আমাদের আজকের এই পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি যেমন আপনার পেটের মেদ কমানোর উপায় জানতে পারবেন একইভাবে আপনি যদি মহিলা হন তাহলে মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

পেটের মেদ কমানোর উপায় এবং মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে আমরা আজকে আপনাদের সামনে ০৫ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। বিষয়গুলো হলোঃ
  1. নিয়মিত শরীর চর্চা
  2. সঠিক খাদ্যাভ্যাস
  3. খাদ্য রুটিনে পরিবর্তন আনা
  4. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম
  5. মানসিক চাপমুক্ত থাকা

পেটের মেদ কমানোর উপায় - মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায়

নিয়মিত শরীর চর্চা

পেটের মেদ কমানোর অন্যতম উপায় হচ্ছে নিয়মিত শরীর চর্চা করা আমরা অনেকেই প্রথম দুই এক দিন খুব আগ্রহ নিয়ে শরীরচর্চা করলেও পরবর্তীতে কেন জানি আমাদের আগ্রহে ভাটা পড়ে যায় এতে করে পূর্বে চাইতে আমাদের মেদ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সেজন্য পেটের মেদ কমাতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনে নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে। শরীর চর্চা একটু কষ্টকর হলেও এখান থেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আকর্ষণীয় ফলাফল পাওয়া যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রেও পেটের মেয়ের কমাতে হলে অবশ্যই নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে।
শরীর চর্চা করার সময় পেটের যে সকল আলাদা ব্যায়াম রয়েছে সে সকল ব্যায়ামগুলো করতে হবে যেমন বেলি, রোলিং ইত্যাদি। প্রতিদিনই অন্ততপক্ষে 25 থেকে 30 মিনিট হাটাহাটি বা দৌড়াদৌড়ি করার অভ্যাস করতে হবে যেটি আপনার পেটের মেদ কমানোর উপায় হিসেবে খুবই কার্যকরী একটি পদ্ধতি।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস

পেটের মেদ কমানোর উপায় খুঁজতে হলে প্রথমেই আপনাকে আপনার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হতে হবে মনে রাখবেন আপনার সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনার পেটের মেদ ৯০% নিয়ন্ত্রণে রাখতে। যেমনঃ
  • দিনে তিনবার সঠিক সময় খাবার অভ্যাস করুন
  • তাড়াহুড়ো করে দ্রুত না খেয়ে ধীরে সুস্থে অল্প অল্প করে খান
  • একেবারে গলা পর্যন্ত না খেয়ে পেটের তিনভাগের একভাগ খাবার, একভাগ পানি এবং অপর ভাগ ফাঁকা রাখুন।
  • সাদা চাল বা সাদা আটার পরিবর্তে লাল চাল বা আটা খাওয়ার অভ্যাস করুন
  • ফাস্টফুড সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন
  • লবণ এবং চিনি যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন
  • অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাবেন না
  • এনার্জি ড্রিংস, কোল্ড ড্রিংস পরিত্যাগ করুন।
  • প্রচুর পরিমাণে শাক সবজি এবং ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
  • নিয়মিত হালকা গরম পানি এবং লেবুর শরবত খাওয়ার চেষ্টা করুন।

খাদ্য রুটিনে পরিবর্তন আনা

খাদ্য রুটিন ও আমাদের পরিবর্তন নিয়ে আসা উচিত। আমরা সকালে খুবই হালকা নাস্তা করে থাকি তারপর দুপুরে কিছুটা ভারি খাবার খায় এবং রাতে খুবই ভারী খাবার গ্রহণ করে থাকি যেটি সম্পূর্ণরূপে ভুল পদ্ধতি। 

আমাদের শরীর স্বাস্থ্য রাখার জন্য সবচাইতে ভারী খাবার গুলো সকালে গ্রহণ করা উচিত দুপুরে তার চাইতে একটু হালকা এবং রাতে একেবারে হালকা খাবার গ্রহণ করা উচিত। কারণ হচ্ছে, আমরা সকালে, দুপুরে যে খাবারগুলো গ্রহণ করে সেগুলো আমাদের সারাদিনের কাজকর্মে প্রায় শোষিত হয়ে যায় কিন্তু রাতে আমরা যে খাবার খেয়ে থাকি সেটি খুব সহজে হজম হয় না।
যেটি পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ। সেজন্য মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর অন্যতম উপায় সকালে ভারী খাবার গ্রহণ দুপুরে তার চাইতে হালকা এবং রাতে দুপুরের চাইতেও হালকা খাবার গ্রহণ করা।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আমাদের শরীরের অনেক সমস্যারই সমাধান করে দেয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে প্রতিদিন নিয়ম করে ছয় থেকে আট ঘন্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। কথায় আছে, Early to bed and early to rise, Makes a man healthy, wealthey and wise, অর্থাৎ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠা একজন মানুষের স্বাস্থ্যবান সম্পদশালী এবং জ্ঞানী করে তোলে। 
পেটের মেদ কমানোর উপায় হিসেবে আমাদের প্রতিদিন দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং দ্রুত ঘুম থেকে উঠা উচিত। আমরা অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকে প্রায় দুপুর পর্যন্ত ঘুমায় যার ফলে সকালে খাবার গ্রহণ আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

আমরা দুপুরে প্রচুর পরিমাণে একসাথে খেয়ে থাকি যেটি শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি পেটের জন্য ক্ষতিকর। তাই মনে রাখতে হবে আমাদের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে হবে এবং সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে হবে পাশাপাশি নিয়মিত ছয় থেকে আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

মানসিক চাপমুক্ত থাকা

টেনশন বা মানসিক চাপকে বলা হয় সকল সমস্যার জননী তাই আপনি যদি স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে পেটের মেদ কমাতে চান তাহলে আপনাকে সবসময় চেষ্টা করতে হবে টেনশনমুক্ত বা মানসিক চাপমুক্ত থাকার জন্য। মানসিক চাপমুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা, হাটাহাটি, ব্যায়াম, যোগব্যায়াম ইত্যাদি খুবই কার্যকরী পদ্ধতি। 
আমরা যখন অতিরিক্ত টেনশন করি তখন আমাদের হরমোন থেকে কার্টিশল নির্গত হয়। পেটের মেদ বৃদ্ধিতে কার্টিশাল ভূমিকা রাখে সেজন্য পেটের মেদ কমানোর উপায় হিসেবে আপনাকে অবশ্যই মানসিক চাপমুক্ত থাকা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। মানসিক চাপমুক্ত থাকার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন= মানসিক চাপমুক্ত থাকার পদ্ধতি।

লেখক এর মতামত

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা আপনাদের সামনে পেটের মেদ কমানোর উপায় এবং মহিলাদের জন্য মহিলাদের পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আশা করব আমাদের আজকের এই পোষ্টটি আপনার ভালো লেগেছে।

এ সংক্রান্ত আপনাদের যেকোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম প্রয়োজনীয় আরও তথ্য পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন এবং গুগল নিউজে আমাদের পেজটিতে ফলো দিয়ে রাখুন। ধন্যবাদ।।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

ইসলামিক ইনফো বাংলা