মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক শেষ শাসক এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতন

   

উপমহাদেশের সবচাইতে শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল মুঘল সাম্রাজ্য। আজকে আমরা মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক  শেষ শাসক  এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতন সম্পর্কে জানব। আসুন জেনে নিই মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক  শেষ শাসক  এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতন কিভাবে ঘটেছিল। আশা করব শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন।

মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক  শেষ শাসক  এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতন

ভারতীয় উপমহাদেশের যে কয়টি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হয়েছিল তাদের মধ্যে শৌর্য - বীর্য ,সাহসিকতা, রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামরিক বাহিনীর শক্তি, ইত্যাদি সকল দিক থেকেই সবচাইতে বৃহৎ এবং শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য ছিল মুঘল সাম্রাজ্য। একমাত্র মুঘল সম্রাটেরাই পেরেছিলেনপুরো ভারতবর্ষকে একত্রিত করে শাসন করতে।

সূচিপত্রঃমুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক  শেষ শাসক  এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতন

 ভূমিকা

১৫২৬ সালের জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য টিকে ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ পর্যন্ত ।৩৩১ বছরের শাসনকালে মোট ১৯ জন সম্রাট এ বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করেছেন। মুঘলরা যেমন অনেক অঞ্চল জয় করেছে তেমনি বহুবার আক্রান্তও হয়েছে।

উত্থান-পতন প্রতিটি সাম্রাজ্যেরই একটি অংশ ঠিক একইভাবে ৩৩১ বছর শাসন করা এই রাজবংশের আলোচিত সমালোচিত বেশ কয়েকজন শাসক রয়েছে তাদের নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থান

১৫২৬ সালে সম্রাট বাবুর মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। তিনি  চেঙ্গিস খান এবং  তৈমুর লং এর উত্তরাধিকারী ছিলেন। তার পিতা ওমর  শেখ মির্জা ছোট্ট একটি পরগনার শাসনকর্তা ছিলেন। অল্প বয়সে বাবরের পিতা মারা গেলে তিনি সিংহাসনে বসেন কিন্তু আপনজনদের ষড়যন্ত্রে তিনি ক্ষমতা হারান। বারবার চেষ্টা করার পরেও তিনি তার পিতৃ সম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হন। 

অবশেষে ১৫২৬ সালের ২৯ এপ্রিল মাত্র ২০ হাজার সৈন্য নিয়ে বাবর তৎকালীন দিল্লির শাসক ইব্রাহিম লোদীর দুই লক্ষ সৈন্যের বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হন। 

এটি ঐতিহাসিক পানিপথের ১ম যুদ্ধ নামে পরিচিত। বাবুরের ২০ হাজার সৈন্যের কাছে ইব্রাহিম লোদীর বিশাল সৈন্যবাহিনী পরাজিত হয়। ভারতের ইতিহাসে এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যবহার করা হয়। বাবুর কে প্রতিরোধ করতে তৎকালীন রাজপুত রাজা রানা প্রতাপ সিংহ এবং আফগানরা এক বিশাল সৈন্যবাহিনী গঠন করে। ১৫২৭ সালের ১৬ মার্চ বাবুর খানুয়ার প্রান্তরে এ বিশাল সৈন্যবাহিনীকে পরাজিত করেন। 

এই বিজয়ের মাধ্যমে মূলত ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে মুঘলরা এক এক করে সমগ্র ভারতবর্ষ জয় করে নেয়। সম্রাট আকবরের শাসনামলে সম্পূর্ণ ভারতকে একত্রিত করে তারা অখন্ড মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে।

আলোচিত কয়েকজন মুঘল সম্রাট

মোট ১৯ জন মুঘল সম্রাট ভারতবর্ষ শাসন করেছেন তাদের মধ্যে আলোচিত কয়েকজন হচ্ছেন

সম্রাট বাবুর
পূর্বে আলোচনা করেছি বাবুর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠার পরে তিনি বেশিদিন শাসন করতে পারেননি। ১৫২৬ সালে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পর চার বছরের মাথায় ১৫৩০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার শাসনের চার বছর প্রায় পুরো সময়টি যুদ্ধবিগ্রহের মধ্য দিয়ে গিয়েছে যার কারণে তিনি শাসন কার্যে ততটা মনোযোগ দিতে পারেননি।

সম্রাট আকবর
সম্রাট আকবর কে বলা হয় ভারতের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তিনি তার পিতা হুমায়ূনের কাছ থেকে যে ছোট সাম্রাজ্যটি পেয়েছিলেন নিজের চেষ্টা, দক্ষতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি সাম্রাজ্যকে সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে দেন। তার শাসনামলে মূলত সমগ্র ভারত বর্ষ একক শাসনের আওতায় আসে।

প্রায় ৫০ বছরের শাসনামলে আকবর মুঘল সাম্রাজ্যেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান মুঘলদের ইতিহাসে এই সময়টিকে বলা হয় সোনালী সময়। কৃষকদের সুবিধার্থে বাংলা সাল প্রবর্তন করেন আকবর । মুঘলদের সবচাইতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল রাজপুতরা। আকবর তার কূটনৈতিক দক্ষতায় রাজপুতদের সাথে একটি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন। 
যার ফলে রাজপুতরা মুঘল সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়। জনগণের জন্য আকবর অনেক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। জনগণের খাজনা কমিয়ে দেন, অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উপর জিজিয়া  প্রত্যাহার করে নেন, রাজপুতদের সাথে তিনি বৈবাহিক সম্পর্কে স্থাপন করেন ফলশ্রুতিতে সমগ্র ভারতবর্ষে তার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। 

তার শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম ধনী অঞ্চলে পরিণত হয়। তার শাসন দক্ষতার জন্য তাকে মহামতি আকবর বলা হয়। এত দক্ষ তারপরেও কিছু কিছু কারনে আকবরকে বিতর্কিত হতে হয়েছে। রাজপুত এবং হিন্দুদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে গিয়ে তার সাথে মুসলমানদের সম্পর্কে যথেষ্ট অবনতি ঘটে। 

এই সম্পর্ক আরো অবনতি ঘটে যখন আকবর দিন -ই- ইলাহী নামে নতুন একটি ধর্মমত প্রতিষ্ঠা করেন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্মের সারাংশ নিয়েই আকবর এই ধর্মের প্রবর্তন করেন। এই ধর্মপ্রবর্তনে আকবরকে যথেষ্ট বিতর্কিত করে রেখেছে।

সম্রাট শাহজাহান 
সম্রাট শাহজাহান ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট তার শাসন আমলে ভারতীয় উপমহাদেশ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হয় শাজাহান মূলত বিখ্যাত হয়ে আছেন ইচ্ছা পদ্ধ শিল্পের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত আগ্রার তাজমহলের নির্মাণকারী হিসেবে এছারাও দিল্লি জামে মসজিদ এবং ময়ূর সিংহাসনের নির্মাণকারী হিসেবে শাজাহান আজও অমর হয়ে আছেন।

সম্রাট আওরঙ্গজেব 
শুধু মুঘলদের ইতিহাসে নয় সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচাইতে আলোচিত এবং সমালোচিত শাসক হচ্ছেন সম্রাট আওরঙ্গজেব। তিনি সম্রাট শাহজাহানের পুত্র ছিলেন, সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্রের মধ্যে  উত্তরাধিকার যুদ্ধে অপর তিন ভাইকে পরাজিত এবং হত্যা করার মাধ্যমে সিংহাসনে আরোহন করেন আওরঙ্গজেব।
তার শাসনামলে তাকে অনেকগুলো বিদ্রোহ দমন করতে হয়েছে। তিনি তার পূর্বপুরুষদের ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদ থেকে সরে এসে শরিয়া আইন প্রবর্তন করেন। সম্রাট আকবরের শাসনামলে যে জিজিয়া কর তুলে নেওয়া হয়েছিল আওরঙ্গজেব তা পুনরায় প্রবর্তন করেন । আওরঙ্গজেব দক্ষতা, কূটনৈতিক দক্ষতা, সমরকৌশল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রায় ৪৮ বছর ভারতবর্ষ শাসন করেন।

তাকে উপমহাদেশের জিন্দাপীর বলা হয়। তিনি টুপি সেলাই এবং কোরআন শরীফ এর অনলিপি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তার শাসনামলে ইসলামের শরিয়া বহির্ভূত যত রকমের কর প্রচলিত ছিল তা তিনি রহিত করে দেন, যার ফলে জনগণের জীবন মানে ব্যাপক উন্নতি ঘটে এসময় মুঘল অর্থনীতি সমগ্র পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। 

সম্রাট আওরঙ্গজেব এর শাসনামলে হিন্দু মুসলিম সম্প্রতি বজায় ছিল এমনকি কট্টর ইসলামপন্থী হওয়া সত্বেও আওরঙ্গজেবের রাজসভায় অনেক হিন্দুর উপস্থিতি ছিল, তার সেনাপতিদের মধ্যেও অনেকে হিন্দু ছিলেন। 

সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের লড়াইএ মুঘল সাম্রাজ্যে যখন টালমাটাল অবস্থা ঠিক সেই সময় আওরঙ্গজেব এসে সেই সাম্রাজ্যকে পুনরায় স্বর্ণ শিখরে আরোহন করান। আওরঙ্গজেবের দৃঢ়তা, দক্ষতা, প্রচেষ্টা মাধ্যমেই মুঘল সাম্রাজ্য পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়। তিনি অর্থনীতিতে ইসলামী নীতি প্রবর্তন করেন, এছাড়াও ইসলামী শরিয়া আইনের জন্য  তিনি ফতোয়ায়ে আলমগিরী রচনা করেন যা আজও ইসলামী শরিয়ার আইনের অন্যতম একটি উৎস।  

সম্রাট হয়েও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপনের জন্য অনেকে আমিরুল মোমেনিন বলে ডেকে থাকেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মূলত মুঘলদের স্বর্ণযুগের সমাপ্তি ঘটে। সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট যিনি দৃঢ়তা, সাহস এবং প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে  বিশৃঙ্খলা দমন করে পুরো রাজ্যকে একক শাসনের অধীন রাখতে পেরেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে শুরু হয়  ইউরোপীয়দের আক্রমণ। 
সকল শাসকের মত আওরঙ্গজেবের ও সমালোচনা কম নেই। পূর্বপুরুষদের রহিত করা জিজিয়া কর পুনরায় চালু করার কারণে অনেকেই তাকে হিন্দু বিদ্বেষী শাসক বলে থাকেন পাশাপাশি অনেকের মতেই তিনি হিন্দু ও শিখদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছেন এবং তাদের বহু মন্দির ভেঙে ফেলেছেন। তবে ইতিহাসে আওরঙ্গজেব সবচাইতে বিতর্কিত হয়ে রয়েছেন তার তিন ভাইকেও হত্যা করে ক্ষমতায় বসার কারণে ।

তবুও একথা স্বীকার করতেই হবে সম্রাট আকবরের পরে মুঘল ইতিহাসে সবচাইতে শক্তিধর এবং যোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।

মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক

মুঘল সাম্রাজ্যের মোট  ১৯ জন শাসকের মধ্যে যদি শ্রেষ্ঠত্বের বিচার করতে হয় তাহলে সবার উপরে নাম থাকবে মহামতি সম্রাট আকবরের এবং উপমহাদেশের আমিরুল মোমেনীন খ্যাত সম্রাট আওরঙ্গজেবের। 

তাদের মত একজন ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা অন্যজন ছিলেন টালমাটাল মুঘল সাম্রাজ্য কে একত্রিত করে সমগ্র ভারতবর্ষের উপর বিজয় অর্জন করে মুঘল সাম্রাজ্য কে পতনের হাত থেকে রক্ষাকারী। দুইজন শাসকই ছিলেন জনহিতৈসী, প্রজাবান্ধব, উদার, সাহসী, দক্ষ, কূটনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন এবং সামরিক দক্ষতা সম্পন্ন। তারা দুজনই ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী। 

তাদের আমলে দেশের কৃষি, আর্থসামাজিক ,অর্থনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা. প্রকৌশল. স্থাপত্য শিল্প. জনগণের জীবনমান সবকিছুরই ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়।

আবার তাদের দুজনকে নিয়ে বিতর্কও কম নেই সম্রাট আকবর যেরকম বিতর্কিত হয়ে আছেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে দিন-ই -ইলাহীর প্রবর্তন করে। তার এই দিন-ই -ইলাহীর জন্য অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিম ঐ সময় নির্যাতিত হয়েছিলেন ঠিক একইভাবে আওরঙ্গজেব বিতর্কিত হয়ে রয়েছেন ভ্রাতৃহত্যা এবং পূর্বপুরুষদের দ্বারা অন্যান্য ধর্মালম্বীদের যে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল তা রোহিত করে।

নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ

নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা আসলেই অনেক কঠিন কে শ্রেষ্ঠ আকবর না আওরঙ্গজেব তবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব এর কারণ সমূহ:  

সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের ভাতৃ-ঘাতী লড়াইয়ে যখন মুঘল সাম্রাজ্য প্রায় টালমাটাল পাশাপাশি সম্রাট শাহজাহান তাজমহল ,ময়ূর সিংহাসনসহ বিলাসী কাজে রাজ কোষের অর্থ যখন প্রায় শূন্য ঠিক সেই সময় পতন মুখ একটি সাম্রাজ্য কে পুনরায় ঢেলে সাজিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে নিয়ে যাওয়ার কর্তৃত্ব সম্রাট আওরঙ্গজেবের ।

ভাতৃ-হত্যার ব্যাপারটি একদিকে সরিয়ে রেখে যদি বিচার বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে আওরঙ্গজেব সম্রাট আকবরের চাইতে অনেক গুণ এগিয়ে থাকবেন। সম্রাট আকবরকে সিংহাসনে বসার জন্য কোন লড়াইয়ে যেতে হয়নি যদি তিনি তাকে লড়াই করতে হতো তাহলে হয়তোবা এই বিশ্লেষণটা আমাদের জন্য আরো সহজ হতো। 
সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় তিনি  হিন্দু বিদ্বেষী শাসক ছিলেন বিশ্লেষণ করলে জানা যায় তার সময়েই ভারতের ইতিহাসের সবচাইতে বেশি হিন্দুরাজ কর্মচারী ছিল। তার নির্দেশে বহু মন্দির সংস্কার এবং নির্মাণ করা হয়েছিল। তার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সেনাপতি হিন্দু ছিলেন। 

তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে তিনি পাঞ্জাবের শিখ মন্দির ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মূল বিষয়টি হচ্ছে সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিরোধীপক্ষের মূল কার্যক্রম মূলত পরিচালিত হতো এই শিখ মন্দির থেকেই ফলশ্রুতিতে বাধ্য হয়ে তাকে মন্দির আক্রমণ করতে হয়। 

উপরের সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আমার কাছে মনে হয়েছে যে মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর।

শেষ মুঘল সম্রাট

সম্রাট  ২য়  বাহাদুর শাহ জাফর

মুঘল ইতিহাসের সর্বশেষ শাসক ছিলেন সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় সিপাহীরা বাহাদুর শাহ জাফর কে তাদের নেতা হিসেবে ঘোষণা দেয়। সে সময় মুঘল সাম্রাজ্য তার জৌলস হারিয়ে শুধুমাত্র দিল্লি এবং তার আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। 

বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন ব্রিটিশদের পেনশন ভোগী একজন শাসক। তিনি গান-বাজনা এবং নর্তকী নিয়ে বেশি সময় ব্যস্ত থাকতেন।  তাকে অনেকটা জোর করে ব্রিটিশ বিরোধী সিপাহী বিদ্রোহের নেতা বানানো হয়েছিল। সিপাহী বিদ্রোহে ভারতবাসীর পরাজয় ঘটলে পতন ঘটে মুঘল সাম্রাজ্যের।

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন

সিপাহী বিদ্রোহে ভারতবাসীর পরাজয়ের পর ইংরেজরা ২য় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করে এবং তার দুই পত্র ব্যাতীত  বাকি পুত্রদের হত্যা করা হয়। আর এভাবেই পতন ঘটে উপমহাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল সাম্রাজ্য মুঘল সাম্রাজ্যের। মুঘলদের পতনের আরো কয়েকটি কারণ রয়েছে যেমন:

  • সঠিক উত্তরাধিকার নীতির অভাব
  •  শাসকদের বিলাসিতা 
  • আওরঙ্গজেবের পরে যোগ্য শাসকের আগমন না ঘটা 
  • নাদির শাহ কর্তৃক ১৭ বার ভারত আক্রমণ 
  • মারাঠাদের উত্থান 
  • ইউরোপীয়দের আক্রমণ  ইত্যাদি।

লেখক এর মতামত

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে মোগল সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে ।আজকে আমরা মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা,  মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক  শেষ শাসক  এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতন এর  কারণসমূহ জানলাম। 

আশা করি  পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।  এরকম আরো অনেক পোস্ট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন এবং আপনাদের মূল্যবান যে কোন মতামত জানাতে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

ইসলামিক ইনফো বাংলা

আমাদের ফেসবুক পেইজ